খবর খবর বলতে কী বুঝ ও কুলজি বলতে কী বুঝ?
ইতিহাস যেকোনো জাতির জন্য বা দেশের
জন্য দর্পণস্বরূপ। যে জাতি যতবেশি উন্নত সে জাতি ততবেশি ইতিহাস সচেতন। ইসলামের
আবির্ভাবের পর অর্থাৎ মহানবি (সা.) এর আগমনের পর মুসলিম ইতিহাস চর্চা আরম্ভ হয়।
মুসলিম ইতিহাস চর্চায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হলো খবর বা আখবারি ইতিহাস।
সাধারণত গল্প বলার রীতিতে কোনো ঘটনার ধারাবাহিক বিবরণকে খবর বলা হয়। অন্যদিকে,
আখবারি ঐতিহাসিক বলতে তাকে বুঝানো হয় যিনি বিভিন্ন গোত্রীয় রেওয়ায়েত সংগ্রহের
ওপর ভিত্তি করে বিশেষ ঘটনা কিংবা ঘটনাবলিকে উপজীব্য করে ইতিহাসের পটভূমি ও ক্ষেত্র
প্রস্তুতের প্রয়াস পান ।
১.খবর : নিম্নে খবর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
১. আভিধানিক পরিচিতি : খবর শব্দটি আরবি
ভাষার। এটি একবচন, বহুবচনে আখবার। এর আভিধানিক অর্থ হলো ক. সংবাদ পরিবেশন করা, খ.
বিবরণ প্রদান করা, গ. প্রতিবেদন তৈরি করা ও ঘ. তথ্য উপস্থাপন করা ইত্যাদি ।
২.পারিভাষিক পরিচিতি : সাধারণত কোনো
বিষয়ে সংবাদ বা তথ্য বিবরণী উপস্থাপন করাকে খবর বলা হয় । আরবদের পরিভাষায় গল্প
বলার রীতিতে ধারাবাহিক কিংবা বিক্ষিপ্তভাবে প্রাচীন ও সমসাময়িক ঘটনাবলির
উপস্থাপনকে খবর বলা হয় । কোনো ঘটনাকে চমকপ্রদ করে উপস্থাপন করার কৃতিত্ব আছে
বিবরণ প্রদানকারী ব্যক্তির ।
৩. খবরভিত্তিক ঐতিহাসিকবৃন্দ : আরব
ইতিহাস চর্চায় আখবারি ঐতিহাসিক বলতে তাদেরকে নির্দেশ করা হয় যারা বিভিন্ন
গোত্রীয় রেওয়ায়েত সংগ্রহের ওপর ভিত্তি করে বিশেষ ঘটনা কিংবা ঘটনাবলিকে উপজীব্য
করে ইতিহাসের পটভূমি ও ক্ষেত্র প্রস্তুতের প্রয়াস পান। বিখ্যাত অখবারি ঐতিহাসিকগণ
হল— ক. আবু
মিখনাফ, খ. আবানা বিন হাকাম, গ. সাইফ বিন ওমর, ঘ. নসর বিন মুজাহিম ও ঙ. আল মাদাইনি
প্রমুখ । নিম্নে বিখ্যাত আখবারি ঐতিহাসিকগণ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
১.
আবু মিখনাফ :
আবু মিখনাফ ৯৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন
এবং ১৫৭ হিজরি বা ৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন । তিনি আখবারি ঐতিহাসিকের
পাশাপাশি কুলজিবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি হযরত আবু বকর (রা.) এর রিদ্দার
যুদ্ধের সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে সিরিয়া ও ইরাক বিজয় শূরা বা পরামর্শ পরিষদ
এবং সিফফিনের যুদ্ধ সম্পর্কে বিবরণ প্রদান করেছেন । এছাড়াও তিনি উমাইয়া শাসনের
পতন পর্যন্ত ইরাকে সংঘটিত ঘটনাসমূহ বিশেষ করে বিভিন্ন যুদ্ধবিগ্রহ এবং খারেজি
বিদ্রোহ সম্পর্কে লিপিবদ্ধ করেছেন ।
২.
সাইফ বিন ওমার :
সাইফ বিন ওমার কুফার একজন আখবারি
ঐতিহাসিক ছিলেন। তিনি ১০৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮০ হিজরি বা ৭৯৬
খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দুটি গ্রন্থ প্রণয়ন করেছিলেন। এর মধ্যে
প্রথমটিতে রিদ্দা ও ফুতুহাত বা বিজয় সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। দ্বিতীয়টিতে ফিতনা
বা জঙ্গে জামাল বা উস্ট্রের যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন । তিনি তার রচনায় ইরাকি
দৃষ্টিভঙ্গির প্রাধান্য দিয়েছেন এবং তামিম গোত্রের রেওয়াতের ওপর অধিক নির্ভর
করেছেন । এছাড়া তিনি খবর পরিবেশনে মদিনার মুহম্মদ বিন ইসহাক হতে উপাত্ত সংগ্রহ
করেছেন ।
৩.
আওয়ানা বিন হাকাম :
আওয়ানা বিন হাকাম ছিলেন কুফার আখবারি ঐতিহাসিক। তিনি ৭৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৪৮ হিজরিতে বা ৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। তার রচিত দুটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো—
১. কিতাব আল তারিখ ও
২. সিরাহ আল মুয়াবিয়া ওয়া বনি উমাইয়া ।
এর মধ্যে কিতাব আল তারিখ হিজরি প্রথম
শতাব্দীর ঘটনাবলি এবং দ্বিতীয় গ্রন্থে উমাইয়া খলিফাদের ধারাবাহিক বিবরণ রয়েছে ।
উমাইয়াদের প্রতি তিনি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতেন না, বরং তাদের প্রতি
সহানুভূতিসম্পন্ন ছিলেন ।
৪.
আল মাদাইনি :
আল মাদাইনি ছিলেন আখবারি ঐতিহাসিকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি কুফার অধিবাসী হলেও পরবর্তীতে বাগদাদে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তিনি ১৬০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২২৫ হিজরি বা ৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন । আখবারি ইতিহাসের ওপর তিনি প্রায় দুইশত চল্লিশখানা গ্রন্থ রচনা করেন। মহানবি (সা.) এর চরিত ইতিহাস থেকে শুরু করে আব্বাসি আমলের ইতিহাস পর্যন্ত তার গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি কুরাইশ বংশের খবর ও কুলজি বর্ণনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তার রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : ক. আল মাগাজি, খ. সিফাত আল নবি, গ. আখবার আল মুনাফিকিন, ঘ. খাতাম আর রাসুল ইত্যাদি ।
আল মাদাইনি ঘটনায় সুক্ষ্মতা নির্ণয়ে
তর্কবিতর্কের মধ্য হতে সত্য নির্ণয়ে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছেন ।
৫.
নসর বিন মুজাহিম :
নসর বিন মুজাহিম ছিলেন কুফার অধিবাসী এবং শিয়া আখবারি । তার গ্রন্থসমূহের অধিকাংশই শিয়া সম্প্রদায়ের অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : ক. আল জামান, খ. সিফফিন, গ. মাকতাল আল হুসাইন, ঘ. আল মানাকিব, ঙ. মানাকিবিল আরিম্মা, চ. ইখবার আল মুখতার ও ছ. মাখতাল হাজর বিন আদি ইত্যাদি। তার রচিত এসব গ্রন্থাবলি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, তিনি ইরাকি ও শিয়াপন্থি ছিলেন।
ইতিহাস চর্চায় খবরের গুরুত্ব
২. ইতিহাস চর্চায় খবরের গুরুত্ব :
নিম্নে ইতিহাস চর্চায় খবরের গুরুত্ব আলোচনা করা হলো :
ক. ইতিহাস রচনার সূত্রপাত : মুসলিম ইতিহাস চর্চা আরম্ভ হয় মহানবি হযরত মুহম্মদ (সা.) এর আগমনের পর। প্রথমদিকে মুসলিম ইতিহাস চর্চা বলতে বুঝাত খবরভিত্তিক ইতিহাস রচনা। বস্তুত খবরভিত্তিক ইতিহাস রচনার মাধ্যমে মুসলিম ইতিহাস চর্চার সূত্রপাত হয় ।
খ. মুসলিম ইতিহাস চর্চার উৎস : মুসলিম ইতিহাস চর্চা যেসব বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল তন্মধ্যে অন্যতম হলো খবর। খবর ছাড়া মুসলিম ইতিহাস চর্চা সম্ভব নয় । কেননা মুসলিম ইতিহাস চর্চার সকল উপাদান খবর থেকে সংগৃহীত হয়েছে।
গ. ইতিহাস চর্চার নতুন মাত্রা লাভ :
খবরভিত্তিক ইতিহাস রচনার মাধ্যমে মুসলিম ইতিহাস চর্চায় নতুন মাত্রা লাভ করে।
ইতিপূর্বে মুসলিম ইতিহাস চর্চা শুধু প্রাক-ইসলামি উৎসের ওপর নির্ভর করে রচিত হতো।
খবর রচনার পর মুসলিম ইতিহাস চর্চা নতুন গতি লাভ করে ।
উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, খবর বা আখবারি ইতিহাস চর্চার মাধ্যমে মুসলিম ইতিহাস চর্চার সূত্রপাত হয়। এ খবর ইতিহাসসমূহ আঞ্চলিক ইতিহাস এবং জীবনচরিত ইতিহাস হিসেবেও গণ্য করা হয়। এসব খবরভিত্তিক ইতিহাস রচনা করে অনেক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে আল মাদাইনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ। যিনি খবরভিত্তিক ইতিহাসের ওপর প্রায় ২৪০টি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। এছাড়া কুলজি ও আখবারের মধ্যে সেতুবন্ধনকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন আবু উবায়দার ।
কুলজির পরিচয় দাও। বিখ্যাত কয়েকজন কুলজিবেত্তার পরিচয় দাও ।
মুসলিম ইতিহাস বলতে সাধারণত
মুসলমানদের সাথে সংশ্লিষ্ট ইতিহাসকে বুঝানো হয়। প্রথমদিকে মুসলিম ইতিহাস বলতে
শুধু কুলজি ইতিহাসকে বুঝানো হতো। এটি মুসলিম ইতিহাস চর্চার প্রাক-ইসলামি আরবের
অন্যতম একটি উৎস। কুলজি বলতে সাধারণত বংশীয় বা গোত্রীয় ইতিহাসকে বুঝানো হয়।
প্রাক-ইসলামি আরবের লোকজন বংশগৌরব বা বংশীয় শৌর্যবীর্য বা বংশতালিকা সম্পর্কে
সচেতন ছিলেন। তারা বংশীয় ইতিহাসসমূহকে সংরক্ষণ করতেন। পরবর্তীতে মুসলিম ইতিহাস
চর্চা আরম্ভ হলে মুসলিম ঐতিহাসিকরা এসব বংশীয় ইতিহাসের সাথে জাতীয় ও আঞ্চলিক
ইতিহাস সমন্বয় করে বিশ্ব ইতিহাস রচনা করেন ।
কুলজির পরিচয় : নিম্নে কুলজির পরিচয় দেওয়া
হলো :
১. আভিধানিক পরিচয় : কুলজি এর আরবি শব্দ হলো নসব। এর শাব্দিক অর্থ হলো : ক. বংশপরিচয়, খ. বংশক্রম, গ. গোত্রীয় ধারা ও ঘ. সম্প্রদায় ইত্যাদি।
২. পারিভাষিক পরিচয় : সাধারণত বংশ বা গোত্রকে কেন্দ্র করে রচিত গল্প, আখ্যান উপাখ্যান ইত্যাদি কুলজিশাস্ত্র হিসেবে পরিচিত। আরব ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাক-ইসলামি যুগে বংশ ও গোত্রের শৌর্যবীর্যের বর্ণনা করাকে কুলজি বলা হয় ।
৩. প্রেক্ষাপট : হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর মধ্যভাগে আরব ইতিহাস চর্চায় ব্যাপ্তি পারিলক্ষিত হয়। তখন ইতিহাস চর্চা মদিনার গণ্ডি পেরিয়ে কুফা বসরাতে পৌঁছে যায়। ফলে ইতিহাস চর্চার ধারা প্রকৃতি ও দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। এ পর্যায়ে আরবদের মধ্যে কুলজিশাস্ত্রের উদ্ভব ঘটে ।
৪. গুরুত্ব : মুসলিম ইতিহাস চর্চায়
কুলজিশাস্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি ইতিহাস চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেননা
মুসলিম ইতিহাস চর্চায় প্রাথমিক পর্যায় ছিল বংশীয় ইতিহাস রচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
ফলে কুলজিশাস্ত্র আরব ইতিহাস রচনার মধ্যে ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে । প্রাক-ইসলামি
যুগ পেরিয়ে ইসলামি যুগে আরব ইতিহাস চর্চায় কুলজি সাহিত্য বিশেষ গুরুত্বের দাবি
রাখে ।
বিখ্যাত কয়েকজন কুলজিবেত্তার পরিচয় : নিম্নে বিখ্যাত কয়েকজন কুলজিবেত্তার পরিচয় আলোচনা করা হলো :
১.
হায়সুম বিন আদি :
কুলজিশাস্ত্রবিদদের মধ্যে হায়সুম বিন
আদি ছিলেন অগ্রগণ্য । তিনি ইতিহাস ও কুলজিশাস্ত্রের মধ্যে সমন্বয়সাধন করেছেন।
কুলজি চর্চার ক্ষেত্রে তার রচিত গ্রন্থের নাম হলো তারিখ আল আশরাফ আল কবির এবং
আনসাব আল আশরাফ। ২০৬ হিজরি বা ৮২১ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন ।
২.
আবু ইয়াকবান আল নাসসাব :
কুলজি সম্পর্কিত বিষয়ে প্রথম লেখালেখি আরম্ভ
করেছিলেন আবু ইয়াকবান আন নাসসাব। তার বর্ণনায় আরব জীবনধারার বিভিন্ন দিকের
ইতিহাসের উপাদান অনুসন্ধান করা যায়। ১৯০ হিজরি বা ৮০৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি
মৃত্যুবরণ করেন ।
৩.
মুসআব আল জুবাইরি :
মুসআব আল জুবাইরি ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইরের বংশধর । তিনি ছিলেন কুলজি সম্পর্কে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি । তার রচিত গ্রন্থদ্বয় হলো— আল নসব আল কবির ও নসব কুরাইশ।
৪.
মুহম্মদ বিন সায়িব আল কালবি :
মুহম্মদ বিন সায়িব আল কালবি কুলজি পরিভাষা ও ইতিহাস সম্পর্কিত বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। তিনি প্রতিটি গোত্রের কুলজি বিশারদদের নিকট থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। অবশেষে ১০৪৬ হিজরিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
৫.
হিশাম বিন মুহম্মদ আল কালবি :
তিনি ছিলেন মুহম্মদ বিন সায়িব আল কালবির পুত্র । কুলজিচর্চায় তিনি পিতার চেয়ে অগ্রগতি সাধন করেন। তার রচিত গ্রন্থের নাম হলো জামহারা আল নসব ।
৬.
আল বালাজুরি :
আল বালাজুরি বিখ্যাত একজন কুলজিশাস্ত্রবিদ ছিলেন। তিনি ২৭৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
২. কুলজির গুরুত্ব : মুসলিম ইতিহাস
চর্চায় কুলজিশাস্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি ইতিহাস চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ
অংশ। কেননা মুসলিম ইতিহাস চর্চায় প্রাথমিক পর্যায় ছিল বংশীয় ইতিহাস রচনার মধ্যে
সীমাবদ্ধ। ফলে কুলজিশাস্ত্র আরব ইতিহাস রচনার মধ্যে ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে।
প্রাক-ইসলামি যুগ পেরিয়ে ইসলামি যুগে আরব ইতিহাস চর্চায় কুলজি সাহিত্য বিশেষ
গুরুত্বের দাবি রাখে ।
উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা
যায় যে, মুসলিম ইতিহাস চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো কুলজিশাস্ত্র।
কুলজিশাস্ত্রকে কেন্দ্র করে মুসলিম ইতিহাস চর্চা বিকাশ লাভ করে। আর এসব
কুলজিশাস্ত্রে যারা পারদর্শী ছিলেন তাদেরকে কুলজিশাস্ত্রবিদ বলা হয়। অনেক
ঐতিহাসিক কুলজিশাস্ত্রে খ্যাতি লাভ করেছেন। তবে কূলজিশাস্ত্রবিদদের মধ্যে আহম্মদ
বিন ইয়াহইয়া বিন আল বালাজুরি ছিলেন শীর্ষস্থানীয়। সর্বোপরি বলা যায় যে,
কুলজিশাস্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম ইতিহাস চর্চার পরিমণ্ডল হয়েছে বিস্তৃত এবং
সমৃদ্ধশালী।